সোমবার ৩১ মার্চ ২০২৫ - ০০:১৩
ঈদে ফিতরের ফজিলত ও আমল

শাওয়াল মাসের প্রথম দিন পবিত্র ঈদুল ফিতর। সারা বিশ্বের মুসলিমরা এই দিনে সম্মিলিতভাবে ঈদের নামাজ আদায় করেন। এই দিনকে ঈদুল ফিতর বলা হয় কারণ এদিন রোজার বিধিনিষেধ শেষ হয়, এবং মুমিনগণ দিনের বেলায় ইফতার করেন।  

হাওজা নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাওয়ালের প্রথম দিন ঈদুল ফিতর। সারা বিশ্বের মুসলিমরা এই দিনে সম্মিলিতভাবে ঈদের নামাজ আদায় করেন। এই দিনকে ঈদুল ফিতর বলা হয় কারণ এদিন রোজার বিধিনিষেধ শেষ হয়, এবং মুমিনগণ দিনের বেলায় ইফতার করেন।  

"ফিতর" ও "ইফতার" শব্দের অর্থ খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ। কোনো বিরতির পর পুনরায় আহার শুরু করাকে ইফতার বলে। যেমন, রমজান মাসে সূর্যাস্তের পর রোজা ভঙ্গ করাকে ইফতার বলা হয়।  

এই দিনের ফজিলত ও আমল সম্পর্কে হাদিস ও রেওয়ায়েতে বর্ণনা পাওয়া যায়, যা সংক্ষেপে পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো:  
রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দিনের মর্যাদা সম্পর্কে বলেছেন:  
শাওয়ালের প্রথম দিনে একজন আহ্বানকারী ঘোষণা করেন: 'হে মুমিনগণ! তোমাদের পুরস্কারের দিকে ধাবিত হও।' অতঃপর তিনি (সা.) বলেন: 'হে জাবির! আল্লাহর পুরস্কার রাজা-বাদশাহদের পুরস্কারের মতো নয়।' এরপর তিনি বলেন: 'এটি পুরস্কার বিতরণের দিন।

আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (আ.) ঈদুল ফিতরের এক ভাষণে এরশাদ করেন:  
হে মানুষ! এই দিনে নেককাররা তাদের পুরস্কার পায়, আর পাপীরা হতাশ হয়। এই দিন কিয়ামতের দিনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই ঘর থেকে বের হওয়ার সময় সেদিনের কথা স্মরণ কর, যখন তোমাদের কবর থেকে উঠিয়ে আল্লাহর দরবারে হাজির করা হবে। নামাজে দাঁড়ালে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর কথা ভাবো। আর ঘরে ফেরার সময় জান্নাতে প্রবেশের মুহূর্তের কথা স্মরণ কর। হে আল্লাহর বান্দারা! রমজানের শেষ দিনে নারী-পুরুষ সকল রোজাদারকে ফেরেশতাদের সুসংবাদ দেওয়া হয়: 'হে বান্দারা! অভিনন্দন! তোমাদের পূর্বের সব গুনাহ মাফ করা হয়েছে। এখন ভবিষ্যতের ব্যাপারে সতর্ক হও।'

ঈদুল ফিতরের কিছু বিশেষ আমল রয়েছে, যা পালনে মাসুমগণ (আ.) জোর তাকিদ করেছেন। তাদের বাণী থেকে বোঝা যায়, ঈদুল ফিতর হলো ইবাদতের পুরস্কার লাভের দিন। এদিন অধিক পরিমাণে দোয়া, আল্লাহর জিকির, সতর্কতা ও দুনিয়া-আখেরাতের কল্যাণ কামনা করা মুস্তাহাব।  

ঈদের নামাজের কুনুতে নিম্নোক্ত দোয়া পড়া হয়:
হে আল্লাহ! এই দিনের মর্যাদায়, যা আপনি মুসলিমদের জন্য ঈদ এবং মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর পরিবারের জন্য মর্যাদার ভাণ্ডার করেছেন, আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি—মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করুন। আমাকে সেই সব নেকিতে শরিক করুন, যাতে আপনি মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর পরিবারকে শরিক করেছেন। আমাকে প্রতিটি মন্দ থেকে মুক্ত করুন, যেখান থেকে আপনি তাদের মুক্ত করেছেন। হে আল্লাহ! আমি আপনার নেক বান্দাদের মতোই ভালো কিছু চাই এবং আপনার খাঁটি বান্দাদের মতোই মন্দ থেকে আশ্রয় চাই।

সহিফায়ে সাজ্জাদিয়ায় ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.)

রমজান ও ঈদুল ফিতরের প্রস্তুতিতে এই দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন:  
হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর পরিবারের উপর রহমত বর্ষণ করুন। রমজানের বিদায়ে আমাদের শোক লাঘব করুন। আমাদের ঈদের দিনে বরকত দিন। এই দিনকে আমাদের জন্য সর্বোত্তম দিনে পরিণত করুন। আমাদের গোপন-প্রকাশ্য সব গুনাহ মাফ করুন। হে আল্লাহ! ঈদের দিনে আমরা আপনার কাছে তাওবা করছি—যে দিনটি আপনি মুমিনদের জন্য আনন্দ ও সমাবেশের দিন নির্ধারণ করেছেন। আমাদের সমস্ত পাপ থেকে ফিরে আসার তাওবা কবুল করুন।

প্রার্থনা: আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে এই দিনে নেক আমল করার ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুন।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha